সুুপ্রিমকোর্ট চাকরির সার্কুলার ১০ থেকে ২০তম গ্রেড (Deadline:15 Jun)

বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট চাকরির একটি সার্কুলার প্রকাশ হয়েছে। মোট ৮টি ক্যাটগরির বিভিন্ন পদ রয়েছে। এগুলো ১০ম থেকে ২০তম গ্রেড।

এই পদগুলো অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ। সরকারি অন্যান্য দপ্তরের চেয়ে সুপ্রিমকোর্টের কাজের পরিবেশ এবং সুযোগ-সুবিধা কিছুটা ভিন্ন ও আকর্ষণীয় হয়ে থাকে।

  • আবেদনের লাস্ট ডেট: ১৫ জুন, ২০২৬।
  • সার্কুলারটি নিচে থেকে দেখুন:

নিচে সুপ্রিমকোর্ট চাকরির সকল পদের নাম ও সুবিধা ও PDF সার্কুলার দেওয়া হল:

১. প্রটোকল অফিসার (গ্রেড-১০)

  • প্রধান কাজ: সুপ্রিম কোর্টের মাননীয় বিচারপতিবৃন্দ, দেশি-বিদেশি গুরুত্বপূর্ণ অতিথি বা ভিআইপিদের (VIP) প্রটোকল বা অভ্যর্থনা দেওয়ার মূল দায়িত্ব এদের।
  • অতিথিদের যাতায়াত, আবাসন, ভ্রমণ এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠান সূচি তদারকি করা এদের কাজ।
  • সুবিধা: এটি একটি ২য় শ্রেণীর গেজেটেড কর্মকর্তার পদ। কর্মক্ষেত্রে সম্মান অনেক বেশি থাকে।
  • ভিআইপি এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সাথে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পাওয়ায় ক্যারিয়ারে ভালো লিয়াজোঁ তৈরি হয়।

২. স্টেনোগ্রাফার / উচ্চমান বেঞ্চ সহকারী (গ্রেড-১৩)

  • প্রধান কাজ: আদালতের এজলাসে বিচারক কোনো রায়, আদেশ বা ডিকটেশন দেন, তখন তা দ্রুত সাঁটলিপিতে (Shorthand) লিখে নেওয়া ।
  • সুবিধা: বিচারকদের একদম কাছাকাছি থেকে কাজ করার সুযোগ থাকে।
  • আইনি প্রক্রিয়া এবং রায় লেখার বিষয়ে ব্যাপক অভিজ্ঞতা অর্জন করা যায়। পদোন্নতির সুযোগ ভালো।

৩. সাঁটমুদ্রাক্ষরিক কাম কম্পিউটার অপারেটর (গ্রেড-১৪)

  • প্রধান কাজ: অফিসের বিভিন্ন চিঠিপত্র, নথি এবং প্রশাসনিক নির্দেশনাবলী সাঁটলিপিতে নোট নেওয়া এবং পরবর্তীতে কম্পিউটারে নির্ভুলভাবে টাইপ করে ফাইল আকারে সংরক্ষণ করা।
  • সুবিধা: টেকনিক্যাল পদ হওয়ায় কাজের মূল্যায়ন ভালো। এছাড়া কম্পিউটারের কাজের ভালো অভিজ্ঞতা তৈরি হয় যা পরবর্তীতে পদোন্নতিতে সাহায্য করে।

৪. অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক (গ্রেড-১৬)

  • প্রধান কাজ: ফাইল মেইনটেইন করা, রেজিস্টার খাতা মেইনটেইন করা, চিঠিপত্র আদান-প্রদান এবং কম্পিউটারে ডেটা এন্ট্রি ও টাইপিংয়ের করা।
  • সুবিধা: কাজের চাপ সাধারণত একটি নির্দিষ্ট রুটিনের মধ্যে থাকে।
  • সরকারি চাকরির সব ধরনের বেসিক সুযোগ-সুবিধা (যেমন: বোনাস, পেনশন, চিকিৎসা ভাতা) পূর্ণমাত্রায় পাওয়া যায়।

৫. মুদ্রাক্ষরিক তথা অফিস সহকারী (গ্রেড-১৬)

  • প্রধান কাজ: মূলত টাইপিং বা মুদ্রাক্ষরণের কাজ।
  • আদালতের বিভিন্ন নথি, নোটিশ, সমন এবং প্রশাসনিক আদেশ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে টাইপ করে ফাইল প্রস্তুত করা।
  • সুবিধা: টাইপিংয়ে দক্ষতা থাকলে এই পদে কাজের চাপ সামলানো খুব সহজ।
  • নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করে অফিস ত্যাগ করার সুবিধা থাকে।

৬. স্টোর কিপার (গ্রেড-১৬)

  • প্রধান কাজ: সুপ্রিম কোর্টের অফিসের যাবতীয় জিনিসপত্র (যেমন: স্টেশনারি, কাগজ, কম্পিউটার সামগ্রী, আসবাবপত্র) এর হিসাব রাখা, স্টক রেজিস্টার মেইনটেইন করা এবং চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন শাখায় তা সরবরাহ করা।
  • সুবিধা: এটি একটি দায়িত্বশীল পদ। আর্থিক বা লজিস্টিকস কেনাকাটার প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত থাকার কারণে অফিসের সবার সাথে ভালো চেনা-জানা তৈরি হয়।

৭. অফিস সহায়ক (গ্রেড-২০)

  • প্রধান কাজ: এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে বা এক শাখা থেকে অন্য শাখায় ফাইল ও চিঠিপত্র পৌঁছে দেওয়া।
  • অফিসের কর্মকর্তাদের দৈনন্দিন দাপ্তরিক কাজে সাহায্য করা এবং ফাইলপত্র গুছিয়ে রাখা।
  • সুবিধা: শিক্ষাগত যোগ্যতা কম হলেও সুপ্রিম কোর্টের মতো মর্যাদাপূর্ণ স্থানে চাকরি করার সুযোগ।
  • কাজের মানসিক চাপ অন্যান্য পদের চেয়ে অনেক কম থাকে।

৮. এমএলএসএস / MLSS (গ্রেড-২০)

  • প্রধান কাজ: অফিস সহায়কের মতোই মূলত আদেশ বহনকারী বা পিয়ন পদ।
  • অফিসের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা তদারকি করা, কর্মকর্তাদের চা-পানি বা নাস্তার ব্যবস্থা করা।
  • এজলাস বা অফিসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সাহায্য করা।
  • সুবিধা: কাজের নির্দিষ্ট কোনো জটিলতা নেই।
  • আদালতের নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশের কারণে এই গ্রেডের অন্যান্য সরকারি চাকরির চেয়ে এখানে কাজের পরিবেশ অনেক ভালো ও নিরাপদ।

💡 সুপ্রিমকোর্ট চাকরির সামগ্রিক কিছু বিশেষ সুবিধা:

  • আবাসন ও যাতায়াত: সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সরকারি কোয়ার্টারের সুবিধা এবং যাতায়াতের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস বা সরকারি পরিবহনের সুবিধা পাওয়ার সুযোগ থাকে।
  • চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা: সরকারি নিয়ম অনুযায়ী চমৎকার চিকিৎসা সুবিধা এবং সন্তানদের পড়াশোনার জন্য শিক্ষা ভাতা পাওয়া যায়।
  • কাজের পরিবেশ: দেশের সর্বোচ্চ আদালত হওয়ায় এখানকার প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা অন্য যেকোনো সরকারি দপ্তরের চেয়ে অনেক উন্নত।